রোববার (২৮ মার্চ) ফসলি জমি ক্ষতি হতে বিরত রাখার প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ করা হয়েছে।
৩নং কালচোঁ ইউনিয়নের খিলপাড়ার কৃষকদের সাথে কথা বললে তারা জানান, আউরিয়া থেকে বারাে ঘােড়া গােয়াট পর্যন্ত খালটির দুই পাশের কৃষকগণ কৃষি কাজ করে জীবন যাপন করছি। খিলপাড়া মৌজায় খােদাই বিলের মাঝখানে এই খালটি ফসলি জমির পানি আসা ও যাওয়ার জন্য পাকিস্তান আমলে মরহুম জুনাব আলী মজুমদার এর (এক্স.এম.এল.এ) এবং এলাকাবাসী নিজেদের প্রয়ােজনে ছােট একটি নর্দমা খনন করে, যার প্রস্থ ২৫ ফুট ও গভীরতা ৯/১০ ফুট এখনাে বিদ্যমান রয়েছে। মরহুম জয়নাল আবেদীন চেয়ারম্যান থাকাকালীন খালটি পুনঃ খনন করেন। ২০০২ সালে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শরীফ উল্যাহ ডাকাতিয়া নদীর পানি খােদাই বিলের সেচ কাজের জন্য আরাে একবার পুনঃখনন করেন। তারপরবর্তী চেয়ারম্যান দিলদার হােসেন (কিসলু) ফিরােজ খাল প্রকল্প নামে আবারও খালটি পুনঃ খনন করেন। যার বর্তমান গভীরতা ১০ ফুট এবং প্রস্থ প্রায় ৩০ ফুট রয়েছে। বর্তমানে খালের দুই পাশে তিনটি গভীর নলকুপ রয়েছে। আবুল হাছানাত মজুমদার, বাবুল বেপারী এবং মাইন হােসেন মজুমদার মালিকানায় পল্লি বিদ্যুৎ এর সাহায্যে সন্তোষজনকভাবে সেচ কাজ চলমান আছে। বর্তমানে উক্ত খালটি আবারাে ভেকো দিয়ে পুনঃ খনন করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। পাশবর্তী মৌজার কাপাইকাপ এলাকায় ভেকো দ্বারা খনন কাজ শুরু করেছে। খনন পরিকল্পনায় খালটি প্রস্থ ৬০ ফুট বা কোথায় তার বেশি পরিমাণ জমি ও জমির ইরি ধান, হুট, ভুট্টা ইত্যাদি ফসলের বিনষ্ট করে দিচ্ছে। অনেক কৃষকের ১৮,২০ ও ২৪ শতাংশ জমির মালিকের ফসলি জমির অস্থিত্ব বিলিন হয়ে যাচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকের জমি ও ফসলের কথা বিবেচনা করে ভেকো দ্বারা খালটি খনন না করলে এলাকার গরীব অসহায় কৃষকগণ অনেক উপকৃত হবে।
তাই কৃষকগনের পক্ষে নোমান হাজী খিলপাড়া মৌজার খাল ও ফসলি জমির মাটি কাটা বন্ধ রাখার প্রয়ােজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে জেলা প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।
এ ব্যাপারে ৩নং কালচোঁ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মানিক হোসেন প্রধানীয়া জানান, আউরিয়া থেকে বারো ঘোড়া গোয়াট পর্যন্ত খালটি দ্বাদশ ইউনিয়নের সীমানায় পড়েছে। তাই হাজীগঞ্জ বিএডিসি (বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন) কর্তৃক খাল খনন শুরু করেছে; তবে জমি নষ্ট হয়েছে বলে ঐ এলাকার কৃষকগন বাধা প্রদান করেছে।
এ ব্যাপারে দ্বাদশ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম বকাউল জানান, আউরিয়া থেকে বারো ঘোড়া গোয়াট পর্যন্ত খালটি হাজীগঞ্জ
বিএডিসি কতৃপক্ষ খনন শুরু করছে। কিন্তু কৃষকদের অভিযোগের ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না।