সরকার ১৫৯ বছর পুরোনো পাবলিক গ্যাম্বলিং অ্যাক্ট, ১৮৬৭ বাতিল করে জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬ কার্যকর করেছে। রাষ্ট্রপতির সম্মতির পর ১ জুলাই গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে আইনটি কার্যকর হয়।
নতুন আইনে প্রথমবারের মতো অনলাইন জুয়া, স্পোর্টস বেটিং, ভার্চুয়াল ক্যাসিনো, ফ্যান্টাসি বেটিং, ই-স্পোর্টস বেটিং, ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে জুয়ার লেনদেন, ভিপিএন, প্রক্সি, মিরর সাইট, ম্যাচ ফিক্সিং ও স্পট ফিক্সিংসহ ডিজিটাল জুয়ার বিভিন্ন কার্যক্রমকে স্পষ্টভাবে অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।
আইনের উল্লেখযোগ্য দিকগুলো: সাধারণ জুয়ার শাস্তি: সর্বোচ্চ ২ বছর কারাদণ্ড বা ২ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড। অনলাইন জুয়ার শাস্তি: সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড বা ১ কোটি টাকা জরিমানা।অনলাইন বেটিং নেটওয়ার্ক, বুকমেকিং, ভিপিএন বা মিরর সাইট ব্যবহার করে জুয়া পরিচালনা: সর্বোচ্চ ৭ বছর কারাদণ্ড ও ৫ কোটি টাকা জরিমানা।সংঘবদ্ধভাবে বা অর্থপাচারের উদ্দেশ্যে অপরাধ করলে: সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড ও ৫ কোটি টাকা জরিমানা। জুয়ার বিজ্ঞাপন, প্রচারণা বা স্পন্সরশিপে জড়িত ব্যক্তি, ইনফ্লুয়েন্সার, শিল্পী বা খেলোয়াড়ের জন্য: সর্বোচ্চ ৩ বছর কারাদণ্ড বা ৫০ লাখ টাকা জরিমানা। ম্যাচ ফিক্সিং: সর্বোচ্চ ৭ বছর কারাদণ্ড ও ১ কোটি টাকা জরিমানা। স্পট ফিক্সিং: সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড ও ৫০ লাখ টাকা জরিমানা।
এছাড়া আদালত অপরাধে ব্যবহৃত ব্যাংক হিসাব, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট, ডিজিটাল ওয়ালেট, ক্রিপ্টো সম্পদ, সার্ভার, মোবাইল, কম্পিউটারসহ সংশ্লিষ্ট সম্পদ বাজেয়াপ্ত করতে পারবেন।
আইনে এসব অপরাধকে আমলযোগ্য, জামিন অযোগ্য ও আপস অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। অনলাইন জুয়াসংক্রান্ত মামলার বিচার হবে সাইবার ট্রাইব্যুনালে এবং তদন্ত করবেন অন্তত সাব-ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার কর্মকর্তা।
এছাড়া সরকারকে এআই, ডিপিআই, ট্রানজ্যাকশন মনিটরিং, বায়োমেট্রিক যাচাই ও জাতীয় ডিজিটাল ব্ল্যাকলিস্টের মতো আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে অনলাইন জুয়া প্রতিরোধের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।