“১৭ বছর পর আমরা সত্যিকারের একটি নির্বাচন করতে যাচ্ছি, যা আমাদের ইতিহাসে সবচেয়ে সুন্দর নির্বাচন হবে”—এমন মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
বুধবার (১১ জুন) যুক্তরাজ্যের লন্ডনে চ্যাথাম হাউজে অনুষ্ঠিত ‘এক নীতি সংলাপ’-এ মূল বক্তা হিসেবে অংশ নিয়ে এ মন্তব্য করেন তিনি।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “ঘোষিত সময়টি (২০২৬ সালের এপ্রিল) নির্বাচনের জন্য সঠিক। দেশের জনগণ প্রস্তুত এবং তরুণ ভোটাররা মুখিয়ে আছেন ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য, যারা গত ১৭ বছর ধরে সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত।”
নতুন বাংলাদেশ গঠনে চলমান সংস্কার কর্মসূচির কথা তুলে ধরে ড. ইউনূস বলেন, “আমরা প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের জন্য সংস্কার কমিশন গঠন করেছি। তাদের সুপারিশ অনুযায়ী একটি জাতীয় ঐকমত্য গঠনের চেষ্টা চলছে। আগামী জুলাই মাসে সেই সনদ জাতির সামনে উপস্থাপন করা হবে।”
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আগে সরকারি সেবায় যেমন পাসপোর্ট নিতে দালাল বা ‘মাধ্যম’ দরকার হতো। এখন এসব সেবা অনলাইনে সহজে পাওয়া যাচ্ছে, যার ফলে দুর্নীতির সুযোগ কমে এসেছে।”
রোহিঙ্গা ইস্যুতে গভীর উদ্বেগ জানিয়ে তিনি বলেন, “সাত বছর আগে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া পাঁচ মাস বয়সী শিশু এখন কিশোর বা তরুণে পরিণত হয়েছে। মার্কিন সহায়তা বন্ধ হওয়ায় তাদের ভরণপোষণ নিয়ে চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে।”
নারীর অধিকার নিয়ে ড. ইউনূস বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকার নারীদের অধিকার রক্ষায় আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে।”
উল্লেখ্য, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টারও বৈঠক হয়েছে বলে জানা গেছে।