গ্যাস্ট্রিকের সমস্যায় ভোগেন না এমন মানুষ কমই আছেন। কিছু খাওয়ার পরই দেখা দেয় গ্যাস আর অ্যাসিডিটির সমস্যা। এর জেরে ফুলে যায় পেট। কারো কারো ক্ষেত্রে দেখা দেয় চোঁয়া বা টক ঢেকুর। অ্যাসিডিটির কারণে অনেকের পেট ফাঁপা, বুক ও পেটে জ্বালার মতো সমস্যাও দেখা দেয়।
কিছু খাবার রয়েছে যা গ্যাস্ট্রিকের যন্ত্রণা দূরে রাখে। চলুন এমন কিছু খাবার সম্পর্কে জেনে নিই-
জিরা ও জোয়ান
জিরা ও জোয়ান
গ্যাস-অ্যাসিড জাতীয় সমস্যা সমাধানে ওষুধের মতো কাজ করে জিরা ও জোয়ান। এই সমস্যা থেকে অবিলম্বে মুক্তি পেতে এই ঘরোয়া টোটকা কাজে লাগিয়ে দেখতে পারেন। এই দুটো উপাদান পানিতে সেদ্ধ করে একটি পানীয় তৈরি করে নিন। এই পানীয় পান করলে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা কমার পাশাপাশি দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও শক্তিশালী হয়। পেটের সমস্যা সমাধানে জিরা ও জোয়ান বেশ কার্যকর।

পাট শাক
পাট শাক
বাজারে এখন খুব সহজেই পাওয়া যায় পাটের শাক। এই শাকের ঝোল পেটের যেকোনো সমস্যায় ধন্বন্তরী। পাট শাক কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যাকেও অনায়াসে বাগে আনতে পারে। তাই গ্যাস্ট্রিকের সমস্যায় ভুগলে পাতে রাখুন পাট শাক। পাট শাকে থাকে প্রচুর ওমেগা-৩ ফ্যাট। যে কারণে পাট শাক খেলে তা শরীরে সৃষ্ট প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। এছাড়াও এই শাকে আছে লাইকোপিন। এটি একটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এটি আমাদের শরীরের কোষগুলোকে রক্ষা করে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে।

বেল
বেলের শরবত
পেট ঠাণ্ডা রাখতে সাহায্য করে দই, ঘোল, ছাঁচ ইত্যাদি। গ্যাস্ট্রিক বা অম্বল আটকাতে কার্যকরী দই। পাশাপাশি পেট ঠান্ডা রাখতে খান বেলের শরবত।বেলের ভেতরের অংশটি পিচ্ছিল ও প্রচুর শাঁস থাকায় এটি পাকস্থলীর জন্য উপকারী। তাই এটি খাবার সঠিকভাবে হজম হতে সাহায্য করে। বেলের ভিটামিন-এ চোখের পুষ্টি জোগায় ও চোখের সুরক্ষায় সাহায্য করে। মলদ্বারের রোগ পাইলস, অ্যানাল ফিস্টুলা, হেমোরয়েড রোগীরা নিয়মিত বেলের শরবত খেলে ওষুধের মতো কাজ করে।
মৌসুমি ফল ও সবজি
সুস্থ থাকতে ভরসা রাখুন মৌসুমি ফল ও সবজিতে। শসা, তরমুজের মত ফল শরীর ঠান্ডা রাখে। অন্যদিকে, টমেটো, লাউ, ঝিঙে, ঢ্যাঁড়শের মতো সবজিগুলো গরমে স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। এসব ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার হজমের গণ্ডগোল থেকে দূরে থাকতে সাহায্য করে।স্বাদের কথা বলতে গেলে বলতে হয় যেহেতু মৌসুমি ফল ও সবজি একটি নির্দিষ্ট ঋতুতে উৎপাদিত হয় তাই খাবারগুলো হয় তাজা। এর স্বাদ হয় মিষ্টি। সঠিক সময়ে ফল এবং শাকসবজি সংগ্রহ করা হলে এগুলি খেতে হয় আরও সুস্বাদু।
শসা
পেটের সমস্যা থেকে বাঁচতে খাদ্যতালিকায় রাখুন শসা। এতে পানির পরিমাণ বেশি। তাই শরীর আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে শসা। শরীরে যে তাপ উৎপন্ন হয়, তা শোষণ করে নিতে পারে শসা। এটি হজমের গোলমাল কমাতেও সাহায্য করে। শসায় প্রচুর পরিমাণে সিলিকা আছে, যা শরীরে জমা ইউরিক অ্যাসিড কমায়। এতে বাতব্যথা থেকে অনেকটাই রেহাই মেলে। গাজরের রসের সঙ্গে শসার রস মিশিয়ে খেলে শরীরের ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা নেমে আসে। এতে গেঁটেবাতের ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।