শিরোনাম
সরকারের আর্থিক সংস্কার ও রাজনৈতিক দায়বদ্ধতায় সন্তুষ্ট আইএমএফ: অর্থমন্ত্রী ছাত্রশিবিরের দায়িত্ব ছাড়লেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম বন্যাকবলিত ১১ জেলায় স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল, সর্বোচ্চ প্রস্তুতিতে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বৃহস্পতিবার থেকে বাড়তে পারে বৃষ্টির প্রবণতা বন্যা পরিস্থিতিতে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিতের দাবি জাতীয় ছাত্রশক্তির সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য জরুরি নির্দেশনা শাহরাস্তিতে চলাচলের রাস্তায় কাঁটা তারের বেড়া: ১৭টি পরিবার গৃহবন্দি, মানবেতর জীবন যাপন ‘বীর রাষ্ট্রনায়ক জিয়াউর রহমান’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এলপিজির দাম বড় পরিমাণে কমলো, ১২ কেজি সিলিন্ডার ১,৫২৮ টাকা নজরুল কেবল অতীত নন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মেরও প্রেরণা: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পদ্মা রেল সেতুর পিলারের নিচে মাটি কাটা প্রকল্পেরই অংশ: সড়ক ও রেলমন্ত্রী শাহজালাল বিমানবন্দরে বিমানের ফ্লাইট থেকে ১৯ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার, মূল্য প্রায় ৪৫ কোটি টাকা হাবিপ্রবিতে হল সংঘর্ষের ঘটনায় ৬ শিক্ষার্থী আজীবন বহিষ্কার, বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি আরও ৬০ জনের অনলাইন জুয়া দমনে নতুন আইন, কার্যকর ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগে কাটল আইনি জটিলতা
বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৩০ অপরাহ্ন

দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতেই নিজস্ব অর্থে পদ্মা সেতু নির্মাণ করেছি: প্রধানমন্ত্রী

দর্পণ ডেস্ক / ২০২ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : বুধবার, ১ জুন, ২০২২

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ বলেছেন, দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতেই তাঁর সরকার এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে বাংলাদেশ নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করেছে ।

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সভায় তিনি বলেন, ‘আল্লাহর রহমতে আমরা এটা করেছি। বিদেশি সাহায্যে নয় নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু হবে, যেটা আজ করা সম্ভব হয়েছে। ইনশাআল্লাহ, আমরা ২৫ জুন পদ্মা সেতু উদ্বোধন করব।’ গণভবনে আজ বিকেলে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, পদ্মা সেতু নিয়ে ওয়ার্ল্ড ব্যাংক যখন দুর্নীতির প্রশ্ন তোলে তখন তিনি সেটাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করেন। যা তারা প্রমাণ করতে পারেনি এবং যেটি কানাডা’র আদালত স্পষ্টভাবে বলেছে- এই সংক্রান্ত সমস্ত অভিযোগ ভুয়া এবং মিথ্যা। কিন্তু, সে সময় একটি প্রচন্ড চাপের মধ্যদিয়ে যেতে হয়েছে এবং দেশের ভাবমূর্তি নিয়েও নানা ধরনের কথাবার্তা দেশের অনেকে বলেছে।

বাংলাদেশ সম্পর্কে কেউ কোন বিরূপ মন্তব্য করলে তাঁর নিজের কষ্ট হয় সেজন্যই বিশ^ ব্যাংকের অভিযোগটিকে তিনি চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করেন বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, এই কষ্ট লাগাটা স্বাভাবিক কারণ এদেশের স্বাধীনতার জন্য জাতির পিতা তাঁর সারাটা জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। সন্তান হিসেবে বাবাকে তাঁরা খুব একটা কাছে পাননি। তাই, এই স্বাধীন দেশে আওয়ামী লীগ যখন সরকারে এসেছে তখন প্রধান কাজই হচ্ছে জাতির পিতার স্বপ্ন পূরণ করা।

তিনি বলেন, নিজের ভাগ্য গড়তে নয় দেশের মানুষের ভাগ্য গড়তেই তাঁর এই ক্ষমতায় আসা। কিন্তু ‘অপবাদ’ দিতে চেয়েছিল আর সততার শক্তি ছিল বলেই এই চ্যালেঞ্জ নিতে পেরেছিলেন তিনি। যাতে দেশের মানুষের অফুরন্ত সহযোগিতা পেয়েছেন তাই আজকে পদ্মা সেতুটা আমরা করতে পেরেছি, বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই একটি সিদ্ধান্তের মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে যে বাংলাদেশ পরনির্ভরশীল নয়, নিজের পায়ে নিজে দাঁড়াতে পারে। আজকে দেশের উন্নয়ন প্রকল্পের শতকরা ৯০ ভাগ নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়ন করার সক্ষমতা বাংলাদেশ অর্জন করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

শেখ হাসিনা এ সময় পদ্মা সেতু নির্মাণের শুরুতে একটি ভূয়া দুর্নীতির অভিযোগ তুলে এর অর্থায়ন বন্ধে বিশ^ ব্যাংককের পদক্ষেপের পেছনে ঘরের শক্রু ‘বিভীষণকে’ দায়ী করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ^ ব্যাংককে দোষ দেব না, কারণ ঘরের শক্রু বিভীষণই হয়। আপনারা জানেন যে ড. ইউনুসই এই কান্ডটা ঘটিয়েছিলেন, গ্রামীণ ব্যাংকের এমডি পদটার জন্য। যে পদ তিনি বয়সের কারণে হারিয়েছিলেন। পরে তিনি সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্ণরসহ সকলের বিরুদ্ধে দু’টি মামলা করেও সেখানে পরাজিত হন।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে বলেন, ব্যাংকের আইন অনুযায়ী তিনি সে ব্যাংকের এমডি থাকতে না পারাতেই প্রতিহিংসা পরায়ণ হয়ে ব্যক্তিগত সম্পর্কের সূত্র ধরে হিলারি ক্লিনটনের মাধ্যমে অর্থাৎ আমেরিকার সরকারকে দিয়ে সে বিশ^ ব্যাংকের প্রেসিডেন্টকে বাধ্যকে করে পদ্মা সেতুর অর্থায়ন বন্ধ করে দিতে।
সুপরিকল্পিতভাবেই তাঁর সরকার দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচেছ উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, এই ব-দ্বীপ অঞ্চলকে জলবায়ুর অভিঘাত থেকে মুক্ত রেখে আগামী প্রজন্মের জন্য সুন্দর ভবিষ্যত বিনির্মাণে তাঁর সরকার শতবর্ষ মেয়াদি ‘ডেল্টা পরিকল্পনা-২১০০’ প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি, যেসব এলাকা অবহেলিত ছিল সেসব এলাকায় নতুন নতুন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে সেগুলোকে উন্নত করে চলেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করেই তাঁর সরকার দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তাঁর সরকার তৃণমূল পর্যায় থেকে মানুষের উন্নয়ন করেছে বলেই দেশের সার্বিক উন্নয়নটা করা সম্ভবপর হয়েছে এবং দারিদ্রের হার ৪০ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে, বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন করোনার ছোবল সত্ত্বে¡ও এবারের সেন্সাস রিপোর্টে দেশের দারিদ্রের হার আরো কমে আসবে। তাঁর সরকার যে প্রবৃদ্ধির হার ৮ শতাংশের ওপরে তুলেছিল তা করোনাকালীন ৩ দশমিক ৫ এ নেমে গেলেও (৩ মাসের জন্য) এখন আবার প্রায় ৭ এ তুলে আনতে সক্ষম হয়েছেন। ২০২৬ সাল নাগাদ বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে তাঁর কার্যক্রম শুরু করতে সক্ষম হবে বলেও তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, এজন্য যে চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে হবে সে বিষয়ে প্রস্তুতি এবং পদক্ষেপও তাঁর সরকার নিচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে এখন রেমিট্যান্স যেমন ভালো আসছে তেমনি রপ্তানি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং জনশক্তি রপ্তানিও বেড়েছে এবং আগামীতে যে ৪র্থ শিল্প বিপ্লব আসার সম্ভাবনা সেখানে প্রতিদ্বন্দিতা করার মত দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার কাজও সরকার হাতে নিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী ’৭৫ এর বিয়োগান্তক অধ্যায় স্মরণ করে বলেন, ’৭৫ এর পরে ক্ষমতা চলে গিয়েছিল মিলিটারি ডিক্টেটরদের হাতে। তারা উর্দি পরে ক্ষমতা দখল করতো আর উর্দি খুলে রাজনিতিবিদ হয়ে যেত। এভাবেই রাষ্ট্রটা চলছিল। ফলে, দেশের উন্নয়ন হয়নি তাদের নিজেদের উন্নয়ন হয়েছে।

তিনি বলেন, এই বাংলাদেশে ১৯ থেকে ২০টি ক্যু হয়েছে, যাতে সব থেকে খেসারত দিয়েছে আমাদের সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী। তাদের হাজার হাজার অফিসার-সৈনিককে হত্যা করা হয়েছে, আমাদের আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ওপর অত্যাচার করেছে সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে অস্ত্রের ঝনঝনানি ছিল। বোমাবাজি আর গুলির শব্দ ছাড়া কোন শিক্ষক বা ছাত্র বিশ^বিদ্যালয় এলাকায় ঘুমাতে পারতো না, এটা তাদের অভ্যাস হয়ে গিয়েছিল। পাঠ্যক্রমে ছিল সেশন জট।

সরকার প্রধান বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরই তাঁরা একে একে সব জায়গায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনেছে এবং উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত করে এর সুফল মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছে।

তিনি বলেন, আজকে অন্তত এটুকু বলতে পারি যে বাংলাদেশটা বদলে গেছে। দেশে আজ মঙ্গা নেই দু’বেলা খাবারের নিশ্চয়তা বিধানের সঙ্গে সঙ্গে পুষ্টি নিশ্চয়তা বিধানে তাঁর সরকার কাজ করছে। শিক্ষার হার বৃদ্ধি করে চিকিৎসা সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছে।
তিনি বৈঠকে উপদেষ্টাদের দলের ‘থিংক ট্যাংক’ আখ্যায়িত করে দলের তৃণমূল থেকে সংগঠনকে শক্তিশালী করে তোলার জন্য সম্মেলন করার বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণের কথাও জানান।আগামী ডিসেম্বর নাগাদ জাতীয় সম্মেলনও আয়োজন সম্ভব বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ