চাঁদপুর জেলার মতলব (দক্ষিণ) উপজেলার প্রাচীনতম ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কাশিমপুর পূরণ উচ্চ বিদ্যালয় তার প্রতিষ্ঠার একশত বছর পূর্তি উদযাপন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বিদ্যালয়ের শতবর্ষ পূর্তি ও পুনর্মিলন অনুষ্ঠান শনিবার (৪ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দীপঙ্কর চন্দ্র সরকার। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মতলব দক্ষিণ উপজেলার নির্বাহী অফিসার আমজাদ হোসেন, যিনি বিদ্যালয়ের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড এগিয়ে নিতে সরকারের পক্ষ থেকে ২ লক্ষ টাকা অনুদানের আশ্বাস দেন। এছাড়া বিদ্যালয়সংলগ্ন রাস্তা সংস্কার ও প্রয়োজনে নতুন সড়ক নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মতলব দক্ষিণ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সালেহ আহাম্মদ এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার গাউছুল আজম পাটোয়ারী।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক লোকমান মিঁয়া।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন শিক্ষক মাওলানা বেলাল হোসাইন এবং গীতা পাঠ করেন সহকারী শিক্ষক গীতা রাণী সাহা। এরপর প্রয়াত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
শতবর্ষ পূর্তি উদযাপনের পরিকল্পনা শুরু হয় ২০১৮ সালে বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে, যা পরবর্তীতে বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বৃহৎ পরিসরে রূপ নেয়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বশির উল্লাহ ঢালী, সাবেক শিক্ষক খোরশেদ আলম মজুমদার, আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব তাজল ইসলাম এবং সাবেক প্রধান শিক্ষক দীপক চন্দ্র দাস। বর্তমান শিক্ষার্থীদের পক্ষে বক্তব্য রাখে মোঃ আজিজুল বারী (দশম শ্রেণী) ও তাসফিয়া আক্তার (অষ্টম শ্রেণী)।
গুণীজন সম্মাননা প্রদান করা হয় মোশারফ হোসেন পাটোয়ারী, আব্দুল আউয়াল প্রধান, আব্দুল কাদের প্রধান, নাসির উদ্দিন প্রধানিয়া, মোহাম্মদ আবুল হাসান, আব্দুর রশিদ ও আবুল কালাম প্রধান-এর হাতে।
অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বিদ্যালয়ের ১৯৮৬ ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী ডা. অমিতাভ সরকার, সহকারী অধ্যাপক (নিউরো মেডিসিন), শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ, বরিশাল। তিনি বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “কাশিমপুর পূরণ উচ্চ বিদ্যালয় আমার জীবনের মধুরতম স্মৃতির স্থান। আমি জীবনের শেষ অধ্যায়টি এই এলাকার মানুষের সঙ্গে, তাদের উন্নয়ন ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থেকে কাটাতে চাই।তিনি বিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষার্থীদের সাফল্য কামনা করে আয়োজক কমিটি ও সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।”