শিরোনাম
সরকারের আর্থিক সংস্কার ও রাজনৈতিক দায়বদ্ধতায় সন্তুষ্ট আইএমএফ: অর্থমন্ত্রী ছাত্রশিবিরের দায়িত্ব ছাড়লেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম বন্যাকবলিত ১১ জেলায় স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল, সর্বোচ্চ প্রস্তুতিতে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বৃহস্পতিবার থেকে বাড়তে পারে বৃষ্টির প্রবণতা বন্যা পরিস্থিতিতে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিতের দাবি জাতীয় ছাত্রশক্তির সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য জরুরি নির্দেশনা শাহরাস্তিতে চলাচলের রাস্তায় কাঁটা তারের বেড়া: ১৭টি পরিবার গৃহবন্দি, মানবেতর জীবন যাপন ‘বীর রাষ্ট্রনায়ক জিয়াউর রহমান’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এলপিজির দাম বড় পরিমাণে কমলো, ১২ কেজি সিলিন্ডার ১,৫২৮ টাকা নজরুল কেবল অতীত নন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মেরও প্রেরণা: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পদ্মা রেল সেতুর পিলারের নিচে মাটি কাটা প্রকল্পেরই অংশ: সড়ক ও রেলমন্ত্রী শাহজালাল বিমানবন্দরে বিমানের ফ্লাইট থেকে ১৯ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার, মূল্য প্রায় ৪৫ কোটি টাকা হাবিপ্রবিতে হল সংঘর্ষের ঘটনায় ৬ শিক্ষার্থী আজীবন বহিষ্কার, বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি আরও ৬০ জনের অনলাইন জুয়া দমনে নতুন আইন, কার্যকর ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগে কাটল আইনি জটিলতা
বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪৮ অপরাহ্ন

মতলব উত্তর থানার ওসি’র অনুপেরণায় মাদক ছেড়ে আলোর পথে ফয়েজ মেম্বার

সুমন আহম্মেদ, মতলব উত্তর (চাঁদপুর) / ২৩৪ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১৭ আগস্ট, ২০২১

দিনে আত্মগোপন, রাতে পুলিশের ভয়ে নির্ঘুম কাটানো। সেই সঙ্গে মরণঘাতী মাদকের ভয়াবহ ছোবল। প্রতিটি মুহূর্ত যেন ভয় আর উৎকণ্ঠায় কাটছিল। এর মধ্যেও মাসে মাসে মামলার ঘানি টানতে আদালতে কাঠগড়ায়। কখনোবা স্বজনদের ছেড়ে জেলখানার চার দেয়ালে বন্দি।সব মিলিয়ে ধীরে ধীরে ছোট হয়ে আসছিল অভিশপ্ত জীবন। ভেবেছিলাম আর বোধ হয় বাঁচা হবে না। কিন্তু না, খুঁজে পেয়েছি আলোর দেখা। মা-ভাই এবং স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে বেশ ভালোই কাটছে জীবন সংসার। দেখছি সৎ পথে বড় হওয়ার স্বপ্ন। মানুষের কাছ থেকে পাচ্ছি আত্মসম্মানও।


অনেকটা আবেগ জড়ানো কণ্ঠে কথাগুলো বলেছেন চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য ফয়েজ আহমেদ। তিনি পশ্চিম পুটিয়ারপাড় গ্রামের হাজী আবদুর রব এর ছেলে। তিনি মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ শাহজাহান কামালের আহ্বানে সাড়া দিয়ে মাদকের অন্ধকার জগৎ ছেড়ে আলোর পথে ফিরেছেন।


একান্ত আলাপে মাদক ব্যবসা ছেড়ে সুন্দর ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা ফয়েজ আহমেদ বলেন, বেকারত্ব জীবন নিয়ে কয়েকটি বছর কেটে যায়। সংসারে জোয়াল কাঁধে নিয়ে সংসারের খরচ চালাতে দেখা দেয় চরম অর্থসংকট। কোনো কাজ না পেয়ে অর্থের জোগান দিতেই বেছে নিয়েছিলাম অন্ধকার মাদকের জগৎ। প্রথমে মাদক সেবন করেছি। এর পর মাদক ব্যবসায়ীদের প্রেরণায় সরাসরি মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ি।


আমার মূল ব্যবসা ছিল ইয়াবা। যা পেতাম ওই ব্যবসায়ীর কাছ থেকেই। প্রথম প্রথম এগুলো বিক্রি করে বেশ ভালই আয় রোজগার হতে লাগলো। এক পর্যায়ে পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী হয়ে গেলাম। টাকার দেখা মিললেও অসৎ পথে এ আয়ে সংসারে শান্ত্মি এলো না। বরং অশান্তি যেন চিরসঙ্গী হয়ে গেল। মাদকসহ ধরা পড়ে হয়ে গেলাম তালিকাভুক্ত ব্যবসায়ী। পর পর হওয়া দুটি মাদক মামলায় আদালতে হাজিরা এবং মামলা চালাতে গিয়ে যা উপার্জন করেছিলাম এর সবটুকুুই ফুরিয়ে গেছে। এর উপর পুলিশের অভিযানের ভয়ে কত রাত যে নির্ঘুম কেটেছে তা গুনে বলা যাবে না। দিনের আলোয় ভয় কম থাকলেও সমাজে মিশতে পারতাম না। ঘৃণা আর আড়চোখে দেখত সবাই। মা, ছোট ভাই-বোন এবং স্ত্রী-কারোর কাছে মুখ দেখাতে পারতাম না। কেউ মিশতো না আমাদের সঙ্গে। আমার সংসার জীবনে ২ ছেলে ও ২ মেয়ে রয়েছে, সন্ত্মানদের ভবিষ্যৎ প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে দাঁড়ায়। তাই ভেবেছিলাম এ অপরাধের জগৎ ছেড়ে ভালো হয়ে যাব। কিন্তু সেই সুযোগ পাচ্ছিলাম না।


তিনি বলেন, মাদকের কারণে সংসারে সীমাহীন অশান্তি ছিল। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মারপিট, কলহ লেগেই ছিল। প্রতি রাতে পুলিশ এসে দরজার কড়া নাড়ত।
পরে ওসি মুহাম্মদ শাহজাহান কামাল স্যারের ডাকে সাড়া দিয়ে মাদক ব্যবসা ছেড়ে আত্মসমর্পণ করেছি। তিন মাস ধরে প্রতি সপ্তাহে একবার থানায় হাজিরা দিয়ে যাচ্ছি। সব থেকে বড় কথা হল পুলিশ বা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এখন আর আমাদের খোঁজ করছে না। হয়রানি করছে না। বরং একজন দারোগা (এসআই) সবসময় আমাদের খোঁজ-খবর রাখছেন। দুঃখ-কষ্ট থাকলে তা সমাধানের চেষ্টা করছেন। তাই আমরা এখন ভালো আছি।


তার স্ত্রী রিমা আক্তার জানান, আমার স্বামী পুলিশের সহায়তায় মাদক ব্যবসা ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছে। আমাদের দাম্পত্যজীবন সুখের হয়, এ প্রত্যাশা করছি।
মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ শাহজাহান কামাল বলেন, পুলিশের কাজ হলো আইন প্রয়োগ করা। কিন্তু আইন প্রয়োগেই সব সমস্যার সমাধান নয়। একজন মাদক সেবনকারীর বিরম্নদ্ধে যখন মামলা হচ্ছে তখন ওই মামলা চালাতে গিয়ে তাকে আরও অপরাধ করতে হচ্ছে। মামলার খরচ বহন করতে গিয়ে সে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত হয়। এতে দেখা যায় একজন মাদক ব্যবসায়ীর বিরম্নদ্ধে একাধিক মামলা থাকায় সে আর ভালো হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না। এ কারণেই মাদক ব্যবসায়ী এবং সেবনকারীদের আত্মসমর্পণের সুযোগ দেয়া হয়েছে।


তিনি বলেন, ফয়েজ আহমেদ মাদক ছেড়ে আলোর পথে এসেছে তাকে পুলিশ বা কোনো আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এখন আর বিরক্ত করছে না। তিনি শান্ত্মিতে বসবাস করছে। আমরা চাই না কারোর বিরম্নদ্ধে মামলা হোক, আর সেই মামলা চালাতে গিয়ে বড় ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ুক।


এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ