আলহাজ্ব এম এ হান্নান আহবায়ক ফরিদগঞ্জ উপজেলা বিএনপি এবং ১ নং সদস্য চাঁদপুর জেলা বিএনপি। দলের ক্রান্তিলগ্নে দলকে সম্মুখ সারীতে দিকনির্দেশনা দেয়া, মামলা হামলায় বহুবার জর্জরিত হয়ে দলের দুঃসময়ে পরীক্ষিত এক সৈনিক হিসেবে মনোনয়নের পূর্ণ দাবিদার হিসেবে বিবেচনা করা হয় আলহাজ্ব এম এ হান্নান কে। উপজেলায় বিভিন্ন সময় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে তার অবদান অনেকেই গুরুত্বের সাথে দেখেন। উল্লেখ্য উপজেলার ১৬ টি ইউনিয়নে ১৬ টি মসজিদ দান করে এখনো এই এলাকার জনগণের মনের বড় অংশে যায়গা করে নিয়েছেন আলহাজ্ব এম এ হান্নান।
২য় হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে ধরা হচ্ছে, লায়ন মোঃ হারুনুর রসিদ। সাবেক সাংসদ, চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ), ব্যাংকিং ও রাজস্ব বিষয়ক সম্পাদক, জাতীয় নির্বাহী কমিটি, সাবেক সভাপতি ফরিদগঞ্জ উপজেলা বিএনপি। দলের দুঃসময়ে কেন্দ্র ঘোষিত কার্যক্রমে সরব উপস্থিতি ও দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে কর্মসূচি পালনে তার ভূমিকা ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও চোখে পড়ার মত। যে সময় দলের মুমূর্ষু অবস্থা ধরা হত, সে সময় শক্ত হাতে দলীয় দিকনির্দেশনার মাধ্যমে কর্মীদের উজ্জীবিত রেখেছেন এই ত্যাগী নেতা। বর্তমানে তাকে হেভিওয়েট প্রার্থীর তালিকায় অন্যতম হিসেবে রাখছেন উপজেলার বিএনপির নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারগণ।
মোঃ মোতাহার হোসেন পাটওয়ারী, সদস্য কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি, উপদেষ্টা চাঁদপুর জেলা বি এন পি, সাবেক কোষাধ্যক্ষ চাঁদপুর জেলা বিএনপি, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফরিদগঞ্জ উপজেলা বি এন পি, সভাপতি আম্বিয়া ইউনুস ফাউন্ডেশন ফরিদগঞ্জ। ফরিদগঞ্জের ত্যাগী নেতাদের অন্যতম হিসেবে ধরা হয় মোতাহার হোসেন পাটওয়ারী কে, দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে চষে বেড়িয়েছেন, দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখা ও দলীয় কর্মসূচী বাস্তবায়নের লক্ষে। তাকেও মনোনয়ন প্রত্যাশায় এগিয়ে রাখছেন অনেক সাধারণ ভোটার। বর্তমানে তার অনেক অনুসারী ও নেতা কর্মী সহ অনেকে মনে করেন, বিএনপির দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা ও প্রাপ্তিতে তাকে গুরুত্ব দেয়া হলে নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করা হবে।
লায়ন আল আমীন, স্পিডি গ্রুপের চেয়ারম্যান, জাতীয় প্রেস ক্লাবের মেম্বার, সাবেক সহ-সভাপতি, সরকারি তিতুমীর কলেজ ছাত্রদল, সদস্য ফরিদগঞ্জ উপজেলা বিএনপি। বর্তমানে তারুণ্য নির্ভরশীল দলীয় মনোনয়ন দৌড়ে অনেকে এগিয়ে রাখছেন এই তরুণ উদীয়মান নেতাকে। শিক্ষিত, মার্জিত, নম্র ও ভদ্রতা ও ঠান্ডা মানুষ হিসেবে সু-খ্যাতি পাওয়া লায়ন আল-আমীন ফরিদগঞ্জ লোকাল রাজনীতিতে ও বিএনপি নেতাকর্মী সহ দলের যে সময় যখন প্রয়োজন হয়েছে, সেখানে তিনি পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন নিজ উদ্যোগে। দল মত নির্বিশেষে তার ত্যাগ ও দলীয় উৎসর্গ বিশেষ করে সময় উপযোগী ও তারুণ্যের মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশার এই প্রতিযোগিতায় বিএনপির এই নেতাকে এগিয়ে রাখছেন অনেকে।
মোঃ হুমায়ুন বেপারি সভাপতি, জাসাস কেন্দ্রীয় সংসদ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। এলাকার পরিচিত মুখ হিসেবে পরিচিত বিএনপির এই নেতা। দলের প্রয়োজনে সব সময় নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা ও নেতাকর্মীদের সংগঠিত করে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ করে আসছেন সকল সময়ে। মনোনয়ন প্রত্যাশার ক্ষেত্রে তাকেও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে ধরে রেখেছেন অনেকে।
এদিকে জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দলের সভাপতি ও সাংস্কৃতিক ফাউন্ডেশনের মহাসচিব হুমায়ুন কবির বেপারীও বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী। তিনি জানান, দলের জন্য নির্যাতিত হয়ে কারাভোগ করেছেন এবং সাংগঠনিকভাবে ফরিদগঞ্জে শক্তিশালী সাংস্কৃতিক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ফরিদগঞ্জ (চাঁদপুর-৪) আসনটি বিএনপির অন্যতম শক্ত ঘাঁটি। আসন্ন নির্বাচনে এই ছয় মনোনয়ন প্রত্যাশীর মধ্যে থেকে কাকে দলীয় হাইকমান্ড মনোনয়ন দেবেন, তা নির্ভর করবে সময় ও কৌশলগত সিদ্ধান্তের ওপর। তবে এরই মধ্যে প্রত্যেকেই নিজ নিজ অবস্থান থেকে মাঠে সক্রিয় হয়ে পড়েছেন। দলীয় হাইকমান্ডের নির্দেশনা বাস্তবায়নের পাশাপাশি নিজেদের ব্যক্তিগত প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। চাঁদপুর-৪(ফরিদগঞ্জ) আসনের মনোনয়ন দৌড়ের এই টান টান উত্তেজনায় এখন দেখার বিষয় বিএনপির পক্ষ থেকে দল কাকে যোগ্য হিসেবে বাছাই করে নেয়, ও সোনার হরিণ মনোনয়ন সহ দলের আসন ভিত্তিক চাহিদা পূরণে কার উপর দায়িত্ব প্রদান করেন।