চাঁদপুরে করোনা রোগীদের চিকিৎসায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে অক্সিজেন সিলিন্ডার সরবরাহ করা হয়েছে।মঙ্গলবার (৩ আগস্ট) দুপুরে চাঁদপুর জেলা প্রশাসক ও জেলা স্বাস্থ্যবিভাগের কর্মকর্তাদের কাছে ১০টি অক্সিজেন সিলিন্ডার তুলে দেন কুমিল্লা সেনানিবাসের প্রধান ও ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের এরিয়া কামন্ডার মেজর জেনারেল জাহাঙ্গীর হারুন।এসময় গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, দেশের দুর্যোগকালীন প্রতিটি মুহূর্তে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বেসামরিক প্রশাসনকে সহযোগিতা দিতে সবসময় প্রস্তুত রয়েছে। তাই অতিমারি এ করোনার বিস্তারেও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী অসুস্থ পীড়িত এবং কর্মহীন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, অতীতের মতো এখনো বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা তাদের জীবনবাজি রেখে মাঠে কাজ করছেন ।
এর আগে চাঁদপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে ’করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে করণীয়’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় যোগ দেন মেজর জেনারেল জাহাঙ্গীর হারুন। এসময় চাঁদপুরে করোনা বিস্তার ও প্রতিরোধ সম্পর্কে কি ধরণের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তা উপস্থাপন করা হয়। একই সঙ্গে চাঁদপুরে করোনার বিস্তার রোধে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অব্যাহত সহযোগিতার জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানানো হয়।
এসময় জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ বলেন, আমি করোনার দুর্যোগময় সময়ে চাঁদপুরে দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। শুরুতে আমরা বিভিন্ন বাহিনীর, জনপ্রতিনিধির সাথে সমন্বয় করে কাজ করছি। আমরা মাঠ পর্যায়ে থেকে কাজ করছি। শহর পর্যবেক্ষণ করা, লকডাউন বাস্তবায়নসহ সকল কার্যক্রম করেছি।
তিনি আরও বলেন, চাঁদপুরে একজন মানুষও না খেয়ে নেই। আমরা সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়নের পাশাপাশি নিয়মিত অসহায়দের ত্রাণ সহায়তা করে যাচ্ছি। শুধু মাত্র জুলাও মাসে পর্যন্ত চাঁদপুরে ১০হাজার ৩শ কল রিসিভ করে, তিন হাজার ৫০ জনকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অনেককে অর্থ সহায়তাও দেয়া হয়েছে। আমরা চেয়েছি জনগণ ও জনপ্রতিনিধিরা আমাদের সাথে থাকুক। এখানকার মানুষ আধুনিক তাই তাদের শুধুমাত্র খাদ্যসহায়তা দিয়ে ঘরে বসিয়ে রাখা সম্ভব না। লকডাউন দীর্ঘ হওয়ায় তারা ঘর থেকে বের হতে চায়। চাঁদপুরে করোনা রোগীর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। যে কোনভাবেই হোক তাদেরকে চিকিৎসাসেবা দিতে হবে। প্রয়োজনে আমরা বেসরকারী হাসপাতালকে করোনা আক্রান্ত রোগীর সেবার যুক্ত করবো ।

পুলিশ সুপার মিলন মাহমুদ বলেন, আমরা শহরকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেও গ্রামগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছিনা। কারন জনবল সঙ্কটের কারনে এতো দূরে যাওয়া হয় না। চাঁদপুরে দায়িত্বরত ১ হাজার পুলিশ সদস্যের মধ্যে ৮০ জন আক্রান্ত হয়েছেন। পুলিশ লাইনসে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তবুও আমরা কাজ করে যাচ্ছি।
এসময় কুমিল্লা সেনানিবাসের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আলিদ চৌধুরী, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমিনুল আকবর, কর্নেল ইমরুল আল কায়েস, লে. কর্নেল খায়রুল ইসলাম, জেলা পুলিশ সুপার মিলন মাহমুদ, জেলা সিভিল সার্জন ডা. সাখাওয়াত উল্লাহ, চাঁদপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হাবিব উল করিম, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নাসির উদ্দিন সরোয়ার। এছাড়াও চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র অ্যাডভোকেট জিল্লুর রহমান জুয়েল, প্রেসক্লাব সভাপতি ইকবাল হোসেন পাটোয়ারীসহ ঊধ্বরতন সেনা ও বেসামরিক কর্মকর্তা এবং জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।