শিরোনাম
সরকারের আর্থিক সংস্কার ও রাজনৈতিক দায়বদ্ধতায় সন্তুষ্ট আইএমএফ: অর্থমন্ত্রী ছাত্রশিবিরের দায়িত্ব ছাড়লেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম বন্যাকবলিত ১১ জেলায় স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল, সর্বোচ্চ প্রস্তুতিতে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বৃহস্পতিবার থেকে বাড়তে পারে বৃষ্টির প্রবণতা বন্যা পরিস্থিতিতে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিতের দাবি জাতীয় ছাত্রশক্তির সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য জরুরি নির্দেশনা শাহরাস্তিতে চলাচলের রাস্তায় কাঁটা তারের বেড়া: ১৭টি পরিবার গৃহবন্দি, মানবেতর জীবন যাপন ‘বীর রাষ্ট্রনায়ক জিয়াউর রহমান’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এলপিজির দাম বড় পরিমাণে কমলো, ১২ কেজি সিলিন্ডার ১,৫২৮ টাকা নজরুল কেবল অতীত নন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মেরও প্রেরণা: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পদ্মা রেল সেতুর পিলারের নিচে মাটি কাটা প্রকল্পেরই অংশ: সড়ক ও রেলমন্ত্রী শাহজালাল বিমানবন্দরে বিমানের ফ্লাইট থেকে ১৯ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার, মূল্য প্রায় ৪৫ কোটি টাকা হাবিপ্রবিতে হল সংঘর্ষের ঘটনায় ৬ শিক্ষার্থী আজীবন বহিষ্কার, বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি আরও ৬০ জনের অনলাইন জুয়া দমনে নতুন আইন, কার্যকর ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগে কাটল আইনি জটিলতা
বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২৬ পূর্বাহ্ন

কঠিন শর্তের কারণে আগ্রহ নেই সরকারের

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক / ৪১১ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : বুধবার, ৭ এপ্রিল, ২০২১

করোনার প্রভাব মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিলের (আইএমএফ) সুদবিহীন ঋণ নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না সরকার। দ্বিতীয় ধাপে আইএমএফ থেকে আরও ৭৬ কোটি ৩০ লাখ ডলার বা সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকার ঋণ পাওয়ার সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের। কিন্তু আইএমএফের ঋণ নিতে গেলে সরকারকে নানা ধরনের কঠিন শর্ত বাস্তবায়ন করতে হয়। একইসঙ্গে জবাবদিহিতাও রয়েছে বেশ। এসব কারণে সরকার ওই ঋণ নিতে চাচ্ছে না।

সূত্র জানায়, করোনার প্রভাব মোকাবিলা করতে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আয় বাড়াতে ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে একাধিক স্কিমের আওতায় সদস্যদেশগুলোকে ঋণ দিচ্ছে আইএমএফ। এর মধ্যে র‌্যাপিড ক্রেডিট ফ্যাসিলিটি (আরসিএফ) বা দ্রুত অর্থায়ন সুবিধার আওতায় বিনা সুদে ঋণ দিচ্ছে। ১০ বছর মেয়াদি এ ঋণের গ্রেড পিরিয়ড সাড়ে ৫ বছর। অর্থাৎ, সাড়ে ৫ বছর পর্যন্ত ঋণের কোনো কিস্তি পরিশোধ করতে হবে না।

কিন্তু ঋণের অর্থ কোথায় কীভাবে খরচ করা হয়েছে, তা জানাতে হবে। একইসঙ্গে আইএমএফ সেগুলো অনুসন্ধান করে দেখতে পারবে। এ ছাড়াও সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় তাদের নানান শর্ত মানতে হবে। এসব কারণে আইএমএফ থেকে দ্বিতীয় ধাপের সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকার ঋণ নিতে চাচ্ছে না সরকার।

এ প্রসঙ্গে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, করোনার প্রভাব মোকাবিলায় আইএমএফসহ উন্নয়ন সহযোগীরা কম সুদে বা বিনা সুদে ঋণ দিচ্ছে। এসব ঋণ সরকারের নেওয়া উচিত। এতে জবাবদিহিতার মাত্রা বেশি। ফলে এসব ঋণে দুর্নীতির সুযোগ কম থাকবে।

তিনি আরও বলেন, এসব বৈদেশিক ঋণ সরকারের বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় ভারসাম্য রাখতে সহায়তা করবে। ফলে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ঝুঁকিমুক্ত থাকবে। জরুরি প্রয়োজনে সরকার যে কোনো সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।

সূত্র জানায়, করোনার প্রভাব মোকাবিলায় আইএমএফ বাংলাদেশকে গত বছরের ২৯ মে ৭৩ কোটি ২০ লাখ ডলার বা ৬ হাজার ২০০ কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন করে। কয়েকদিনের মধ্যেই অর্থছাড় করে দেয়। এসব অর্থ করোনার প্রভাব মোকাবিলায় জনগণের স্বার্থসুরক্ষা ও বিভিন্ন আয়বর্ধক খাতে খরচ করার কথা ছিল।

ঋণের অর্থ ছাড় করার পর ১০ মাস চলে গেছে। ওই সময়ে সরকার ওই অর্থ থেকে দুই হাজার কোটি টাকা ৪টি সংস্থার নামে বরাদ্দ করেছে। বাকি অর্থ এখনো পড়ে আছে। এর মধ্যে পল্লিকর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনকে (পিকেএসএফ) ৫০০ কোটি টাকা, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংককে ৫০০ কোটি টাকা, পল্লি সঞ্চয় ব্যাংককে ৫০০ কোটি টাকা ও কর্মসংস্থান ব্যাংকের নামে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়।

এর মধ্যে প্রতিটি সংস্থার নামে ২৫০ কোটি টাকা করে ছাড় করা হয়েছে। এর মধ্যে পিকেএসএফ ছাড়া বাকি তিনটি সংস্থা ছাড় করা টাকা এখনো খরচ করতে পারেনি। পিকেএসএফ ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে ওই অর্থ ছাড় করে দ্বিতীয় পর্যায়ে আরও ২৫০ কোটি টাকা চেয়েছে।

এদিকে আইএমএফ প্রথম ধাপে ছাড় করা অর্থ খরচের খাতভিত্তিক তালিকা চেয়েছে সরকারের কাছে। একইসঙ্গে নতুন ঋণ ছাড় করার ব্যাপারে সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চেয়েছে। এসব সম্পর্কে জানালে আইএমএফ ঋণের পরবর্তী অংশ অনুমোদন করার ব্যাপারে পদক্ষেপ নেবে। কিন্তু সরকার থেকে এ ব্যাপারে আইএমএফকে এখন পর্যন্ত কিছুই জানানো হয়নি।

এদিকে করোনার প্রভাব মোকাবিলায় উন্নয়ন সহযোগীদের ঋণ ছাড় বেড়ে যাওয়ায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণও নতুন উচ্চতায় উঠেছে। বর্তমানে রিজার্ভের পরিমাণ ৪ হাজার ৩৫০ কোটি ডলার, যা দিয়ে ৯ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব।


এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ