অথচ এত উচ্চ মর্যাদায় আসীন যিনি, সেই মহান ইমাম হোসাইন (আ:) এবং নবী পরিবারের বিরুদ্ধে তরবারি ধরতে পাপিষ্ঠ বর্বর ইয়াজিদ কুণ্ঠাবোধ করে নি। ৬১ হিজরীতে কারবালা প্রান্তরে ইতিহাসের নির্মমতম হত্যাযজ্ঞ চালায় কুখ্যাত ইয়াজিদ। মানবাধিকারের চরমতম লঙ্ঘন আজও কোটি হৃদয়ে রক্ত ঝড়ায়৷ ১০ই মহররম যখন দরজায় কড়া নাড়ে, মু’মিনদের চোখ দিয়ে অশ্রুধারা প্রবাহিত হয়।
ক্ষমতালোভী, দুশ্চরিত্র, ইসলামের ঘোরতর শত্রু ইয়াজিদের সকল অন্যায়, অবিচারের বিরুদ্ধে যখন কেউ প্রতিবাদের সাহস করেনি, দ্বীন ইসলাম ধ্বংসের পথে তখন ইমাম হোসাইন (আ:) ও নবীপরিবারের সদস্যবর্গ প্রিয় নবিজী (সা) এর দ্বীনকে রক্ষার জন্য, ইসলামের মর্যাদাকে সমুন্নত রাখার জন্য নিজেদেরকে উৎসর্গ করে দিয়েছিলেন।
আজ ঘরে ঘরে অজস্র স্বরে হাসান ও হোসাইন (আ:)এর স্মরণ প্রমাণ করে সত্যের বিজয় অবশ্যম্ভাবী। হোসাইন (রাঃ) তার শাহাদাতের মাধ্যমে চিরঞ্জীব হয়ে মানব অন্তরের রাজত্ব অধিকার করেছেন। আর নিকৃষ্ট ইয়াজিদ ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছে। একইভাবে যারা ইমাম হোসাইন(আ:) ও আহলে বায়াতে রাসুলগণকে ভালোবাসবে তারাও মুক্তির পথ খুঁজে পাবে ; যারা বিদ্বেষ পোষণ করবে কালের গহ্বরে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।
শোহাদা-এ-কারবালা ও শায়খুল ইসলাম, হযরত সাইয়্যিদ মইনুদ্দীন আহমদ আল হাসানী মাইজভাণ্ডারী (কঃ) স্মরণে ২০শে আগস্ট, রাতে ঢাকার মিরপুরে মাইজভাণ্ডার রাহমানিয়া মইনীয়া কেন্দ্রীয় খানকাহ্ শরীফে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রিয় নবিজী (সা) ৩১তম বংশধর, ‘পার্লামেন্ট অব ওয়ার্ল্ড সুফিজ’র প্রেসিডেন্ট, সাইয়্যিদ সাইফুদ্দীন আহমদ আল হাসানী।
প্রিয় নবিজী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও আহলে বায়াতে রাসুলগণের প্রতি সালাম প্রেরণ, মুনাজাত, অংশগ্রহণকারী এবং অসহায় দুঃস্থদের মাঝে বিশেষ খাবার বিতরণের মাধ্যমে আলোচনা সভা সমাপ্ত হয়৷
বক্তব্য রাখেন, মুফতি মাওলানা এইচএম মাকসুদুর রহমান, মুফতি আসমাইন আসরার মাইজভাণ্ডারী, মওলানা রুহুল আমিন ভূইয়া চাঁদাপুরী, মাওলানা মনসুর আলি প্রমুখ।