বিশ্বব্যাপী আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং মানবাধিকার সমুন্নত রাখতে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ। মঙ্গলবার (১০ জুন) রাতে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) আয়োজিত রুল অব ল সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে অনলাইনে যুক্ত হয়ে তিনি এ আহ্বান জানান।
প্রধান বিচারপতি বলেন, “বিশ্বজুড়ে শান্তিপূর্ণ, ন্যায়সঙ্গত এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের প্রচেষ্টা, ন্যায়বিচারের সুযোগ এবং মানবাধিকার রক্ষায় জাতিসংঘের আরও কার্যকর ভূমিকা দরকার।” তিনি জাতিসংঘকে একে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির ভিত্তি হিসেবে আইনের শাসনের প্রতি তাদের সমর্থন জোরদারের আহ্বান জানান।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণআন্দোলনের মধ্য দিয়ে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনের পর নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় তিনি বিচার বিভাগের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। সেই বিপ্লব ছিল তরুণদের ন্যায়বিচারের পক্ষে স্পষ্ট অবস্থান।
তিনি বলেন, “৪২ লাখের বেশি মামলার জট, বিচার বিভাগে অবিশ্বাস এবং অতীতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ সত্ত্বেও আমরা সংস্কারের রোডম্যাপ হাতে নিয়েছি। এর লক্ষ্য—স্বাধীন, দক্ষ এবং জনভিত্তিক একটি বিচার বিভাগ গড়ে তোলা।”
ড. রেফাত আহমেদ জানান, বিচার বিভাগের ডিজিটাল রূপান্তর, স্বচ্ছতা এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে ইউএনডিপি, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য এবং সুইডেনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অংশীদার সহায়তা করছে।
তিনি আরও বলেন, “দক্ষিণ আফ্রিকার ট্রানজিশনাল জাস্টিস অভিজ্ঞতার আলোকে আমরা বুঝতে পেরেছি—সুদূরপ্রসারী বিচার সংস্কার ছাড়া স্বৈরশাসন থেকে কার্যকর গণতন্ত্রে উত্তরণ সম্ভব নয়।”
বক্তব্যের শেষভাগে প্রধান বিচারপতি বলেন, “যেখানে ন্যায়বিচার অনুপস্থিত, সেখানে তা রাস্তায় প্রতিফলিত হয়। আর ন্যায়বিচার পুনঃপ্রতিষ্ঠা শান্তি ও মানবাধিকারের পথে এগিয়ে যেতে সহায়তা করে।”
উল্লেখ্য, ১০–১২ জুন পর্যন্ত নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত এই রুল অব ল সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রধান বিচারপতি ও বিচার বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তারা অংশ নিচ্ছেন।