চাঁদপুরের মতলব উত্তর ও দক্ষিণ উপজেলায় বৈশ্বিক মহামারি কোভিড-১৯ সংকট মোকাবেলায় মানুষের পাশে এগিয়ে এসেছে বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘হেল্পলাইন মতলব’ বিশ্ববিদ্যালয়-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সচেতন তরুণদের নিয়ে এটির যাত্রা শুরু হয়েছে।
বর্তমানে একঝাঁক স্বেচ্ছাসেবী তরুণ নিজের স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করাপূর্বক হেল্পলাইন মতলবের মাধ্যমে মতলববাসীকে সংকট মোকাবেলায় বিভিন্ন জরুরী সেবা দিয়ে যাচ্ছেন সাথে নতুন করে যুক্ত হয়েছে অক্সিজেন সেবা। দুই উপজেলার ২ টি পৌরসভা ও ২০ টি ইউনিয়নেই স্বেচ্ছাসেবকগণ মোটরবাইকের মাধ্যমে সেবা পৌছে দিচ্ছেন।”
‘হেল্পলাইন মতলব’ নামে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পেজ খুলে সংগঠনের কল সেন্টারের ছয়টি ফোন নম্বর দুই উপজেলা ব্যাপী ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে। লকডাউন ও সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখার কারণে অসহায় হয়ে পড়া মতলবের বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ এসব নম্বরে জরুরি সহায়তার জন্য ফোন করছেন। সংশ্লিষ্ট ঠিকানায় হেল্পলাইনের স্বেচ্ছাসেবকগণ সরাসরি গিয়ে সহায়তা পৌছে দিচ্ছেন।
এ বিষয়ে উদ্যোক্তাদের একজন নূর মোহাম্মদ তামিম জানান, অসহায় পরিবারকে হেল্পলাইন মতলবের জরুরি ফোন নম্বরে ফোন করলে করোনা সংক্রান্ত তথ্য, অক্সিজেন সেবা, ডাক্তারের মাধ্যমে সরাসরি টেলিমেডিসিন সেবা, অ্যাম্বুলেন্স সেবা, হাসপাতালের তথ্য, বিনামূল্যে সাধারণ ওষুধ পৌছে দেয়া, খাদ্য সামগ্রী, করোনা কালীন সময়ে অসহায় কৃষকদের ধান কাটা সহ ইত্যাদি সেবা বিনামূল্যে দেয়া হচ্ছে কোনো পরিবারের প্রয়োজন হলে নিত্য বাজার পরিবারের অর্থে করে পৌছে দেয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, টেলিমেডিসিন সেবার জন্য ডাক্তার দেবাশীস সরকার,ডাক্তার শরিফ আহমেদসহ বেশ কয়েকজন কল সেন্টারের নম্বরগুলোতে যুক্ত আছেন। যেকোন অসুস্থতায় যেহেতু গ্রামের মানুষ প্রথমেই স্থানীয় পল্লী চিকিৎসকদের কাছে যায় তাই কোভিড-১৯ রোগের কথা মাথায় তাদেরকে পারসোনাল প্রটেকটিভ ইকুইপমেন্ট(পিপিই) দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় পশু- পাখিকে এই সময়ে খাবার দেয়া হচ্ছে।
সংগঠনটির উদ্যোক্তা সাজিন আহম্মেদ কৌশিক জানান, আমরা জাতির এই দুঃসময়ে মতলববাসীর পাশে থাকার চেষ্টা করছি। তবে আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে আমরা পরিকল্পিত আরো কিছু কাজ করতে পারছি না। সরকারি সহায়তা পেলে সেগুলোও করা সম্ভব হতো। (২৪ ঘন্টা হটলাইন – ০১৩২২২১০২২২)