বাংলাদেশে শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম মজুরি এবং আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে শ্রম সংস্কার কমিশন একটি বিস্তারিত সুপারিশ প্রতিবেদন তৈরি করেছে। এই সুপারিশগুলির মধ্যে রয়েছে, প্রতি তিন বছর পর পর জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ঘোষণার প্রস্তাব, প্রতিটি শ্রমিককে আইনি সুরক্ষা দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, এবং শ্রমিকদের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক-অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র বা প্রমাণপত্র দেওয়ার বাধ্যবাধকতা। এছাড়া, জাতীয় পেনশন স্কিম চালু করা, শ্রমিকদের জন্য রেশন ব্যবস্থা চালু করা, এবং নারী শ্রমিকদের মাতৃত্বকালীন ছুটির মেয়াদ ছয় মাস করার সুপারিশও করা হয়েছে।
কমিশন আরও সুপারিশ করেছে, শ্রমিকদের জন্য প্রতি বছর মূল্যস্ফীতির ভিত্তিতে মজুরি বৃদ্ধি করা, রপ্তানিমুখী শিল্প খাতের জন্য আপৎকালীন তহবিল গঠন, এবং শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের শর্ত শিথিল করার প্রস্তাব। এছাড়া, আউটসোর্সিং নিয়োগ বন্ধ করা এবং স্থায়ী শ্রম কমিশন প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন।
গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক জলি তালুকদার বলেন, এসব সুপারিশ অনেক দিনের দাবি, তবে তাদের বাস্তবায়ন নিয়ে আশঙ্কা রয়েছে, কারণ অতীতে একই ধরনের সুপারিশের পরেও বাস্তবায়ন হয়নি। একই মত পোষণ করেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান, যিনি বলেন যে, এখনো প্রায় ৯০ শতাংশ শ্রমিক অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে কাজ করেন এবং তাদের আইনি সুরক্ষা নেই।
তাদের দাবি, কমিশনের সুপারিশগুলো দ্রুত বাস্তবায়িত হওয়া উচিত, বিশেষত মে দিবসে জাতীয় ন্যূনতম মজুরি বাস্তবায়নের ঘোষণা আসা উচিত, যা শ্রমিকদের জন্য একটি বড় উপহার হবে।