শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, অর্ধশতাব্দী পেরিয়ে গেলেও শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্বপ্ন আজও বাস্তবায়িত হয়নি। গণতন্ত্র বারবার মৃত্যুকূপে পতিত হয়েছে এবং একদলীয় দুঃশাসনের বাতাবরণ সৃষ্টি করে রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে।
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, বহু রক্ত ঝরলেও আজও মত প্রকাশ, লেখা ও বলার স্বাধীনতা সংকট থেকে মুক্ত হতে পারেনি। তবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদের পতনের পর যদি আইনের শাসন, স্বাধীন বিচার বিভাগ এবং বহু পথ ও মতের রাজনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা যায়, তবেই শহীদ বুদ্ধিজীবীদের আদর্শ বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।
বাণীতে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসরদের হাতে নিহত শিক্ষক, চিকিৎসক, লেখক, সাংবাদিক, শিল্পীসহ শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি তিনি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন এবং তাদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছেন। ১৪ ডিসেম্বর জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের স্মরণের দিন উল্লেখ করে তিনি বলেন, শহীদ বুদ্ধিজীবীরা দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন এবং স্বাধীনতার পক্ষে কলম ধরেছিলেন। তাদের জীবন ও কর্ম আজও জাতিকে অনুপ্রাণিত করে।
তিনি আরও বলেন, দেশের বুদ্ধিজীবীদের হত্যা ছিল বাংলাদেশকে মেধাশূন্য করার গভীর চক্রান্ত, যার লক্ষ্য ছিল স্বাধীনতার বিজয়কে বাধাগ্রস্ত করা। বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের হত্যা আজও জাতিকে বেদনাবিধুর করে। তবে তাদের রেখে যাওয়া আদর্শ—জ্ঞান-বিজ্ঞান, মুক্ত চিন্তা এবং ধর্ম-বর্ণ-গোষ্ঠী নির্বিশেষে সম্প্রীতির চেতনা—একটি উন্নত ও প্রগতিশীল দেশ গড়ার প্রত্যয় জাগিয়ে তোলে।
শোকাবহ এই দিনে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রত্যাশার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি শহীদ বুদ্ধিজীবীদের পরিবারবর্গের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।