রাজধানীর কারওয়ান বাজারে দৈনিক প্রথম আলো–র প্রধান কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের পর ফার্মগেটে অবস্থিত ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টার–এর প্রধান কার্যালয়েও হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ওই দুই এলাকায় সেনাবাহিনী ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষোভে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে ছাত্র-জনতা। প্রথমে শাহবাগের দিক থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো কার্যালয়ের সামনে এসে জড়ো হয়। এ সময় বিক্ষুব্ধরা প্রথম আলো ও ভারতবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।
একপর্যায়ে মিছিল থেকে কিছু লোক প্রথম আলোর কার্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। তারা অফিসের কাগজপত্র ও কম্পিউটার নিচে ফেলে দেয় এবং ভবনের সামনে অগ্নিসংযোগ করে। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা খানিকটা দূরে ফার্মগেটে অবস্থিত বহুতল ডেইলি স্টার ভবনের সামনে জড়ো হয়। সেখানে ভবনের ভেতরে ঢুকে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা।
ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিক্ষুব্ধ জনতাকে অগ্নিসংযোগ থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করতে দেখা যায়।
ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহজাহান শিকদার বলেন, প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তিনটি ফায়ার স্টেশনের মোট আটটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। তবে বিক্ষুব্ধ জনতার কারণে কয়েকটি ইউনিট বিভিন্ন স্থানে আটকা পড়ে।
তিনি আরও জানান, সেনাবাহিনীর সহায়তায় প্রথম আলো কার্যালয়ে দুটি ইউনিট এবং ডেইলি স্টার কার্যালয়ে একটি ইউনিট আগুন নেভানোর কাজ করছে। পুলিশের সহায়তায় অন্য ইউনিটগুলো ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে।