শিরোনাম
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর জেলেনস্কির টুইট বিএনপি করলেও যে বিষয়ে আপত্তি নেই শামীম ওসমানের শততম ছক্কার মাইলফলকে মুশফিক ক্ষমতায় গেলে প্রতিশোধ নিতে চান না ইমরান খান মেট্রোরেল চলাচল বন্ধ ছিল ১ ঘণ্টা স্বামী-স্ত্রীর বয়সের ব্যবধান কত হওয়া উচিত কচুয়ায় অটোরিক্সা চালক সাব্বির হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ৯ নেদারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শেখ হাসিনার দ্বিপাক্ষিক বৈঠক ভাসানচরে পৌঁছালো আরও ১ হাজার ৫২৭ রোহিঙ্গা ইসরায়েলকে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করতে ইইউ’র আহ্বান কোস্ট গার্ড আধুনিকায়নে ব্যাপক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সরকার: রাষ্ট্রপতি একুশে পদক পাচ্ছেন ২১ বিশিষ্ট ব্যক্তি বছরের ব্যবধানে বেড়েছে খেলাপি ঋণ গুম-খুন নিয়ে মিথ্যাচার করছে বিএনপি: কাদের সীমান্তে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সতর্ক বিজিবি
রবিবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৬:৪৭ পূর্বাহ্ন

আল কুরআনুল কারিম সম্পর্কে মহান আল্লাহ তায়ালার বাণী ও আল-হাদিসে’র ভাষ্য

ইসলামিক ডেস্ক / ১২৪২ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০২০

আল কুরআন মানব জাতির জন্য পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা হিসেবে রাসূল সা:-এর ওপর নাজিল করা হয়েছে। স্বয়ং আল্লাহ তায়ালাই এ গ্রন্থের হিফাজতের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তাই এতে কোনো প্রকার পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও পরিমার্জনের অবকাশ নেই। আল কুরআন যেমনটি নাজিল হয়েছিল তেমনটিই রয়েছে এবং চিরকালই আপন অবস্থায় থাকবে। এর একটি শব্দ বা বর্ণও রদবদল হয়নি এবং কখনো হবে না।
অসংখ্য হাফেজের হৃদয়ে পূর্ণ আল কুরআন সংরক্ষিত আছে। এটিও আল কুরআনের অন্যতম মুজিজা। অন্য কোনো আসমানি গ্রন্থ এভাবে সংরক্ষিত নেই। আল কুরআনই অপরিবর্তিত ধর্মগ্রন্থরূপে চিরকাল বলবৎ থাকবে। এর মধ্যে বিধৃত আদর্শ, নীতি ও আইন-কানুন সর্বকালের সব দেশের প্রতিটি মানুষের জন্য প্রযোজ্য। এ ছাড়া মানুষ ও জ্বিন জাতির হিদায়াতের জন্য সর্বশেষ নাজিলকৃত গ্রন্থ হচ্ছে আল কুরআন।
পবিত্র কুরআনে এসেছে, ‘যারা ঈমান আনে, সৎকর্ম করে এবং মুহাম্মদের প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তাতে বিশ্বাস করে, আর তাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে এ নাজিলকৃত আল কুরআন সত্য। তিনি তাদের মন্দ কাজগুলো বিদূরিত করবেন এবং তাদের অবস্থা ভালো করবেন।’ (সূরা মুহাম্মদ : আয়াত-২) এ আয়াতে ‘আজ জিকর’ বলে আল কুরআনকেই বুঝানো হয়েছে।
অন্য এক আয়াতে ইরশাদ হয়েছে,আমি এ আল কুরআন অবতীর্ণ করেছি আরবি ভাষায়, যাতে তোমরা বুঝতে পারো।’ (সূরা ইউসুফ : আয়াত-২) মহান রাব্বুল আলামিন লাওহে মাহফুজ থেকে ওহির মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ সা:-এর প্রতি ২৩ বছরের নবুওয়াতকালে এ কিতাব নাজিল করেছেন।

আল কুরআনের মূল বিষয়বস্তু হজরত শাহ ওয়ালি উল্লাহ র.-এর মতে পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন-
  • ইলমুল আহকাম : ইবাদত, মুআমালাত, লেনদেন, মুআশারাত সামাজিকতা ইত্যাদির ক্ষেত্রে ওয়াজিব-অবশ্যকরণীয়, মান্দুব-প্রশংসনীয়, মুবাহ-বৈধ, মাকরূহ-অপছন্দনীয় এবং হারাম অবশ্য পরিত্যাজ্য ইত্যাদি বিষয়াদি সম্পর্কিত তথ্যজ্ঞান।
  • ইলমুল মুখাসামা : অর্থাৎ ইহুদি, খ্রিষ্টান, মুশরিক ও মুনাফিক এই চারটি দলের সাথে বিতর্কে পারদর্শিতা লাভের জন্য প্রয়োজনীয় ইলম তথা জ্ঞান।
  • ইলমুত তাজকির বি আলাইল্লাহ : আল্লাহ তায়ালার অনুগ্রহ ও নিদর্শন সম্পর্কিত ইলম। এতে আকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টি রহস্য, আল্লাহ প্রদত্ত ইলহাম এবং সৃষ্টিকর্তার সর্ববিধ গুণাবলির পরিচয় সম্পর্কিত বর্ণনা রয়েছে।
  • ইলমুত তাজকির বি আইয়ামিল্লাহ : আল্লাহ তায়ালার সৃষ্ট বস্তুর অবস্থা, অনুগতদের পুরস্কার ও অবাধ্যদের শাস্তি সম্পর্কিত বর্ণনা।
  • ইলমুত তাজকির বিলমাউত ওয়া মা বা’দাল মাউত : অর্থাৎ মৃত্যু ও তার পরবর্তীকালে অবস্থা সম্পর্কিত ইলম তথা জ্ঞান। এতে পুনরুত্থান, একত্রীকরণ, হিসাব-নিকাশ, মিজান ও জান্নাত-জাহান্নাম সম্পর্কিত বর্ণনাসমূহ বিদ্যমান রয়েছে। এ ছাড়া মাক্কি সূরাসমূহে তাওহিদ, রিসালাত, আখিরাত, জান্নাত, জাহান্নাম, হিসাব-নিকাশ সম্পর্কে এবং মাদানি সূরাসমূহে শরিয়াতের হুকুম আহকাম তথা আচার-ব্যবহার, হালাল-হারাম, সমাজ জীবন ও রাষ্ট্রনীতি সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।

আল কুরআনের জ্ঞানার্জনের মর্যাদা ও গুরুত্ব : মানুষ কার আনুগত্য করবে, কিভাবে আনুগত্য করবে এবং কি কি কাজ থেকে বিরত থাকবে তা জানার জন্য আল কুরআনের ইলম বা জ্ঞানের প্রয়োজন। এ জন্যই আল্লাহ রাব্বুল আলামিন নবুওয়াতের সূচনাতেই সর্বপ্রথম যে আয়াতসমূহ হেরাগুহায় নাজিল করেন তাতে জ্ঞানার্জন অত্যাবশ্যক করে নির্দেশ ‘পড়’।
আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘পাঠ করুন আপনার প্রতিপালকের নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন। সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট রক্ত থেকে। পাঠ করুন, আর আপনার প্রতিপালক মহিমান্বিত। যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন। শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানত না।’ (সূরা আলাক : ১-৫)

এ আয়াতসমূহে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে-

  • মহান স্রষ্টার সর্বপ্রথম নির্দেশ হচ্ছে পড়ো বা অধ্যয়ন করো।
  • ‘জমাট রক্তের’ মতো সাধারণ ও তুচ্ছ বস্তু থেকে মহিমান্বিত প্রতিপালকের সান্নিধ্যে ও সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য জ্ঞানসাধনাকে সেতুবন্ধন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
  • কলমের সাহায্যে তিনি মানব জাতিকে জ্ঞানদান করেছেন।
এ প্রথম প্রত্যাদেশ থেকেই জ্ঞানার্জনের মর্যাদা ও গুরুত্ব সুস্পষ্ট।
অন্যত্র আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘বলুন, যারা জানে আর যারা জানে না তারা কি সমান?’ (সূরা জুমার : ০৯) অন্য আয়াতে উল্লেখ রয়েছে,‘তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং যাদেরকে জ্ঞান দান করা হয়েছে আল্লাহ তাদেরকে মর্যাদায় উন্নত করবেন।’ (সূরা মুজাদালা : আয়াত-১১)
আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন,‘তিনি যাকে ইচ্ছা হিকমত দান করেন এবং যাকে হিকমত দান করা হয় তাকে প্রভূত কল্যাণ দান করা হয়।’ (সূরা বাকারা :আয়াত-২৬৯)
রাসূলুল্লাহ সা:-কে কিতাব ও হিকমত দানের মাধ্যমে তাঁকে যে মহান মর্যাদা দান করা হয়েছিল সে প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘আল্লাহ আপনার প্রতি কিতাব ও হিকমত অবতীর্ণ করেছেন এবং আপনি যা জানতেন না তা আপনাকে শিক্ষা দিয়েছেন।’ (সূরা নিসা :আয়াত-১১৩)
রাসূলুল্লাহ সা:-এর হাদিসে এভাবে এসেছে,‘আল্লাহ যার মঙ্গল কামনা করেন তাকে দ্বীনের ব্যুৎপত্তি দান করেন। বস্তুত আমি বণ্টনকারী এবং দাতা হচ্ছেন স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা। (বুখারি ও মুসলিম. সূত্র : মিশকাত, পৃষ্ঠা-৩২)
মানব জাতির চরম উৎকর্ষ সাধনকারী জ্ঞান। প্রতিটি মুসলমানের জন্য জ্ঞানার্জনকে ফরজ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সা: ইরশাদ করেন, ‘ইলম তথা জ্ঞান অন্বেষণ প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। (ইবনে মাজা, সূত্র : মিশকাত, পৃষ্ঠা-৩৪)

আল কুরআনের জ্ঞানার্জনে আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি : আল্লাহ তায়ালার প্রিয়পাত্র হতে হলে অবশ্যই ইলম অর্জন করে তাঁর সন্তুষ্টি ও অসন্তুষ্টির বিষয়সমূহ জেনে সে অনুযায়ী আমল করতে হবে। আর এ উদ্দেশ্যে যে ব্যক্তি জ্ঞানান্বেষণে রত থাকে, আল্লাহ তায়ালার কাছে তার মর্যাদা সম্পর্কে হজরত আবু দারদা রা: বর্ণনা করেন। আমি রাসূলুল্লাহ সা:-কে বলতে শুনেছি, ‘যে ব্যক্তি ইলম অন্বেষণের লক্ষ্যে পথ চলে আল্লাহ তায়ালা তার জন্য জান্নাতের পথ সুগম করে দেবেন। জ্ঞানার্জনকারীর কাজে সন্তুষ্ট হয়ে ফেরেশতারা তাদের ডানা তাদের জন্য বিছিয়ে দেন। আর ইসলামী জ্ঞানার্জনকারীর জন্য আসমান-জমিনের সবকিছু ক্ষমা প্রার্থনা করে। এমনকি পানির মাছও। নিছক ইবাদতকারী ব্যক্তির তুলনায় বিজ্ঞ আলেমের মর্যাদা ঠিক সেরূপ যেমনটি পূর্ণিমার চাঁদের মর্যাদা সমস্ত তারকার তুলনায়।
আলেমরা হচ্ছেন, নবীদের ওয়ারিশ ও উত্তরাধিকারী। আর নবীরা কাউকে দিনার ও দিরহামের উত্তরাধিকারী করে যাননি। তাঁরা উত্তরাধিকারী করেন ইলমের। যে ব্যক্তি তা অর্জন করল সে প্রচুর কল্যাণ লাভ করল।’ (আবু দাউদ ও তিরমিজি, সূত্র : মিশকাত, পৃষ্ঠা-৩৪)।
হজরত আনাস রা: থেকে বর্ণিত রয়েছে,‘সর্বোত্তম আমল হচ্ছে আল্লাহ বিষয়ক ইলম। নিঃসন্দেহে ইলম তোমার উপকারে আসবে, চাই তার সাথে অল্প আমল হোক, বা অধিক আমল হোক আর অজ্ঞতা তোমার কোনো উপকারে আসবে না, চাই তার সাথে অল্প আমলই থাক বা অধিক আমলই থাক।’ (কানজুল হাকাইক ফি হাদিসি খায়রিল খালাইক, জামি সগিরের পাদটিকা)


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ