শিরোনাম
সাইফুল ইসলাম রুবেলের ইন্তেকাল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর জেলেনস্কির টুইট বিএনপি করলেও যে বিষয়ে আপত্তি নেই শামীম ওসমানের শততম ছক্কার মাইলফলকে মুশফিক ক্ষমতায় গেলে প্রতিশোধ নিতে চান না ইমরান খান মেট্রোরেল চলাচল বন্ধ ছিল ১ ঘণ্টা স্বামী-স্ত্রীর বয়সের ব্যবধান কত হওয়া উচিত কচুয়ায় অটোরিক্সা চালক সাব্বির হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ৯ নেদারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শেখ হাসিনার দ্বিপাক্ষিক বৈঠক ভাসানচরে পৌঁছালো আরও ১ হাজার ৫২৭ রোহিঙ্গা ইসরায়েলকে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করতে ইইউ’র আহ্বান কোস্ট গার্ড আধুনিকায়নে ব্যাপক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সরকার: রাষ্ট্রপতি একুশে পদক পাচ্ছেন ২১ বিশিষ্ট ব্যক্তি বছরের ব্যবধানে বেড়েছে খেলাপি ঋণ গুম-খুন নিয়ে মিথ্যাচার করছে বিএনপি: কাদের
মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৩:১৩ পূর্বাহ্ন

ডায়াবেটিস সম্পর্কে প্রচলিত ভুল ধারণা

দর্পন ডেস্ক / ১৭৩ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : সোমবার, ১৬ নভেম্বর, ২০২০
সংগৃহীত ছবি

বিশ্বব্যাপী মহামারী করোনা (কোভিড-১৯) এর কারণে ডায়াবেটিকদের নানান সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। বিভিন্ন পর্যবেক্ষণমূলক গবেষণায় এরকম তথ্য মিলছে।

করোনাভাইরাস মহামারীর মাঝে নিরাপদ থাকার জন্য গৃহবন্দি জীবনে ডায়াবেটিস রোগীরা পড়েছেন বিপাকে। শরীরচর্চার সুযোগ কমেছে, দুশ্চিন্তা বেড়েছে, খাদ্যাভ্যাস নষ্ট হচ্ছে। পাশাপাশি লকডাউনের বন্দি জীবনে নতুন ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা বাড়ছে বলেও দাবি করছেন চিকিৎসকরা।

ভিডিও কলের মাধ্যমে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করার ভারতীয় অ্যাপ ‘প্র্যাক্টো’র দাবি গত বছরের তুলনায় চলতি বছরে ডায়াবেটিস সংক্রান্ত পরামর্শের চাহিদা বেড়েছে ১২শ’ শতাংশ।

ভাইরাসের প্রকোপের কারণে ডায়াবেটিস রোগীদের নিয়মিত শারীরিক পরীক্ষায় ব্যাঘাত ঘটেছে, ফলে রোগী বাড়ছে ক্রমাগত। আর সময় মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে না পারার কারণে রোগটি সম্পর্কে মনগড়া ধারণাগুলো শক্তিশালী হয়ে উঠছে ক্রমেই। ডায়াবেটিস সম্পর্কিত ভুল ধারণাগুলো তুলে ধরেছেন ‘প্র্যাক্টো’র ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞরা।

  • ডায়াবেটিস শুধু বৃদ্ধ বয়সে হয়

শৈশব কিংবা কৈশোরে ডায়াবেটিস দেখা দিলে আগে ধরে নেওয়া হত তা ‘টাইপ ওয়ান ডায়াবেটিস’।

তবে বর্তমানে অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের কারণে কৈশোর ও তারুণ্যের মাঝেই অনেকেই ‘টাইপ টু ডায়াবেটিস’য়ের কাছে ধরাশায়ী হচ্ছেন। ‘টিনএইজ’ বয়সে কিংবা ২০ বা ৩০ এর কোঠায় যাদের বয়স, তাদের ‘টাইপ টু’ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা প্রায়শই দেখা যায়।

  • দীর্ঘদিন ডায়াবেটিসের ওষুধ খেলে বৃক্ক নষ্ট হয়

রক্ত পরীক্ষার ফলাফল স্বাভাবিক আসলে অসংখ্য ডায়াবেটিস রোগী এই রোগের জন্য দেওয়া ওষুধ খাওয়া বন্ধ করে দেন। ওষুধের দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারের ক্ষতিকর দিকের আতঙ্ক থেকেই তারা এমনটা করেন।

তবে প্রকৃত ঘটনা হল, ওষুধ খাওয়া বন্ধ করে দিলেই রক্তে শর্করার মাত্রা অস্বাভাবিক মাত্রায় বাড়তে শুরু করবে। আর রক্তে সেই অনিয়ন্ত্রিত শর্করার মাত্রাই ডেকে আনবে বৃক্কের ক্ষতি। শুধু বৃক্ক নয়, সেই সঙ্গে হুমকির মুখে পড়বে চোখ, স্নায়ু, হৃদযন্ত্র, যকৃত ইত্যাদিসহ অন্যান্য অঙ্গও।

  • খালি পেটে এবং ‍দুপুরে খাওয়ার দুই ঘণ্টা পর শর্করার স্বাভাবিক থাকলেই নিশ্চিন্ত

বিভিন্ন দিনে এবং একই দিনের বিভিন্ন সময়ে একজন ডায়াবেটিস রোগীর রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিক থাকতে নাও পারে। তবে ডায়াবেটিস স্বাভাবিক আছে কি-না তা জানতে হলে প্রতি তিন মাস পর আপনাকে ‘এইচবিএওয়ানসি’ পরীক্ষাটি করাতে হবে।এই পরীক্ষার ফলাফল বলে দেবে ওই তিন মাস সময়ে আপনার ডায়াবেটিস গড় হিসেবে স্বাভাবিক ছিল কি-না।

এছাড়াও ‘লিপিড প্রোফাইল’, ‘কিডনি ফাংশন টেস্ট’, ‘লিভার ফাংশন টেস্ট’, ‘আই এক্সামিনেশন’, ‘ফিট এক্সামিনেশন’ এই পরীক্ষাগুলোও বছরে কমপক্ষে একবার করাতে হবে।

ডায়াবেটিস অনিয়ন্ত্রিত হলে কিংবা চিকিৎসকের পরামর্শ মাফিক বছরে আরও বেশি সময়ও পরীক্ষাগুলো করাতে হতে পারে। এই পরীক্ষাগুলোর মাধ্যমে ডায়াবেটিসজনীত কোনো জটিল সমস্যা প্রাথমিক অবস্থাতেই শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

  • যারা মিষ্টি বেশি খায়, তাদেরই শুধু ডায়াবেটিস হয়

বর্তমান যুগের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা বিবেচনা করলে আমাদের প্রত্যেকেরই কম বেশি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়া ঝুঁকি আছে। আর ডায়াবেটিসের জন্য যে শুধু চিনিই দায়ি তা কখনই নয়। দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাস যদি স্বাস্থ্যকর ও সুষম না হয়, তবে চিনি খান আর নাই খান, ডায়াবেটিস হতে পারে। অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস মানে হল খাওয়া সময়ের কোনো রুটিন না থাকা, ঘুমের অনিয়ম, তৈলাক্ত খাবার খাওয়া, অতিরিক্ত ওজন, শরীরচর্চার অভাব ইত্যাদি। স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা শৈশব থেকেই মেনে চলা উচিত। তাই আপনার সন্তান যদি গোলগাল হয়, সে হয়ত দেখতে আদুরে, তবে স্বাস্থ্যবান নয়।

  • ডায়াবেটিস হলেই মানতে হবে বিশেষ খাদ্যাভ্যাস

কিছু বিশেষ এবং জটিল রোগীর ক্ষেত্রে এই ব্যাপারটা সত্য হতে পারে। তবে বেশিরভাগ ডায়াবেটিস রোগীর কোনো বিশেষ খাদ্যাভ্যাসের প্রয়োজন নেই।একজন সুস্থ মানুষের সুস্থতা ধরে রাখার জন্য যে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস কিংবা জীবনযাত্রা মেনে চলা উচিত, সাধারণ ডায়াবেটিস রোগীর জন্যও সেটাই যথেষ্ট। বেশি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার অল্প পরিমাণে খাওয়া, তবে ঘন ঘন খাওয়া। অর্থাৎ দিনে তিন বেলা পেট ভরে না খেয়ে আরও বেশি বারে একই পরিমাণ বা তারও কম খাওয়া।

এড়িয়ে চলতে হবে প্রক্রিয়াজাত খাবার। ফল ও শাক সবজি খাওয়ার মাধ্যমে ভোজ্য আঁশ গ্রহণের মাত্রা বাড়াতে হবে। পানি পানের পরিমাণ বাড়াতে হবে। প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ মিনিট হাঁটতে হবে। পর্যাপ্ত ঘুম পূরণ করতে হবে। হুট করে কোনো ‘ডায়েট’ শুরু করা শরীর উপকারের বদলে ক্ষতিই করে বেশি।

  • ইনসুলিন শরীরের ক্ষতি করে

কিছু ডায়াবেটিস রোগীর এই ইঞ্জেকশন নিতে হয় প্রতিদিন। এটি অবশ্যই চিকিৎসক নিতে বললেই কেবল নিতে হবে, অন্যথায় নেওয়া উচিত না।ট্যাবলেটের মাধ্যমে কোনো রোগীর ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না হলে চিকিৎসকরা ইনসুলিন নেওয়া পরামর্শ দেন। চিকিৎসকের এই সিদ্ধান্ত হতে পারে সাময়িক কিংবা স্থায়ী, নির্ভর করবে রোগীর অবস্থার ওপর। রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণের জন্য ইনসুলিন এখন পর্যন্ত সবচাইতে কার্যকর ওষুধ। ‘ডোজ’য়ের নিয়ম সঠিকভাবে মানতে পারলে এবং সাবধানে নিতে করলে ইনসুলিন কখনই রোগীর ক্ষতি করে না।

বর্তমানে বিভিন্ন মানের ইনসুলিন মেশিন বাজারে পাওয়া যায়। এর সুঁচ অত্যন্ত সুক্ষ্ম হয়। ফলে ব্যথা লাগে না বললেই চলে। মেশিনের মধ্যেই ইনসুলিন’য়ের ‘ডোজ’ নির্ধারণ করে দেওয়ার সুবিধাও থাকে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ